AD-SENSE !! কত টুকু সত্য
ব্লগার'সদের (এমন কিছু ব্যক্তি যারা উনাদের বিশেষত্ব
বিষয়গুলির উপর কিছু কিছু লিখেন) প্রাথমিক এবং উন্নতম পছন্দ এডসেন্স যেটাকে আজকের যুগে পাবলিকেশন এর জগতে একটি
শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কারণ এখান থেকে ব্লগারগণ তাদের প্রকাশনের সাইট গুলির উপর থেকে সহজেই অর্থ উপার্জন
করতে পারেন। যদি সঠিক ভাবে এডসেন্স কে ব্যবহার করা হয় তবে একজন ভালো লেখক অনেক মোটা
অংকের অর্থ উপার্জন করতে পারেন। অনেকেই আছেন যারা উনাদের ওয়েবপেজ গুলোর উপর একবার কাজ
করেই ছেড়ে দেন এবং যা ইনকাম হয় তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন ইটা কোনো বুদ্দিমানের কাজ নয়
কারণ আপনার পেজ গুলোকে ঠিকমতো মেইন্টেন না করায় অনেক বিরাট অংকের টাকা আয় করা থেকে
বঞ্চিত হোচ্ছন। তাই প্রতিটি ব্যবসায়ের মতো এটাকে সঠিক মূল্য দিতে হবে, মর্যাদা দিতে
হবে, পাঠকের মতামত ও বিজ্ঞাপন গুলোকে সুন্দর ভাবে টিউন করতে হবে।
অনেকেই চিন্তা করেন এডসেন্স এর মাধ্যমে
কি ভাবে অর্থউপার্জন করা যায় ? সেটাও খুব দ্রুত ও মোটা অংকের টাকা । হাঁ ইটা একটা অন্য
জগৎ আপনাকে কোনো কাগজে লিখা চাপতে হচ্ছে না বিক্রি করার জন্য বাজার খুঁজতে হচ্ছে না,
এখানে আপনি ডিজিটাল মাধ্যমে আপনার লিখা পাবলিশ করছেন, পাবলিশ করা লিখার উপর এডসেন্স
বিজ্ঞাপন এনেদিচ্ছে আর এই বিজ্ঞাপন গুলোর আয়ের একটা অংশের টাকা আপনাকে দিচ্ছে। এভাবে
পাঠকের সংখ্যার উপর নির্ভর করছে বিজ্ঞাপনের সংখ্যা একই সঙ্গে একজন লেখকের সম্ভাব্য
আয়ের পরিমান।
পৃথিবীতে অসংখ ব্লগার আছেন অনেকের বয়েস
১০ থেকে ৯০ এবং উনারা এটাকেই প্রাথমিক আয়ের রাস্তা বানিয়ে রেখেছেন। এখানে ভাষার কোনো
বাধ্যবাধকতা নেই আপনি যেকোনো ভাষায় লিখতে পারেন কারণ প্রতিদিন ৩০ মিলিয়ন লোক ইন্টারনেট
সার্ফিং করছে। অধিক চিন্তা না করে আজই শুরু করুন, প্রথমেই প্রশ্ন মাথায় আসছে কি বিষয়ের
উপর লিখবো ? প্রতি জন ব্যক্তি কোনো না কোনো
বিষয়ের উপর সামান্য বিশেষত্ব রাখেন সেটা আপাকেই খুঁজতে হবে, লিখা শুরু করার আগে কিছু
বিশেষ শব্দ "কি-ওয়ার্ড" আপনার লিখার বিষয়ের উপর থেকে বের করুন। এই কি-ওয়ার্ড কে প্রাধান্য দিয়ে আপনার পেজ গুলোকে
লিখুন, লিখার গুণগত মান বজায় রাখুন। পাঠক সেসব লিখাই পছন্দ করেন যেগুলো উনাদের জীবনের
মান উন্নত করে। তাই ভালো লিখা আরম্ভ করুন এবং
ভালো অর্থ উপার্জনের একটি সুন্দর ও সঠিক রাস্তায় পা রাখুন।
আমরা জেনে গেছি বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে এখানে
ইনকাম হয়, আর বিজ্ঞাপন আসে পাঠকের সংখ্যার উপর। পাঠকের সংখ্যা নির্ভর করছে মূলত তিনটি
বিষয়ের উপর, তাই এই বিষয়গুলিকে মাথায় রেখে লিখা শুরু করতে হবে।
আপনার লিখার বিষয়ের উপর থেকে সর্বপ্রথম
কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধান করুন। আপনার লিখা
প্রাসঙ্গিক ও জনপ্রিয় হওয়া জরুরি, লিখাগুলোর
মধ্যে কি-ওয়ার্ড কে সংমিশ্রণ করে লিখুন
। একজন পাঠকের অবস্থান থেকে চিন্তা করুন কিধরনের
বিশেষ শব্দ (কি-ওয়ার্ড) ব্যবহার করে উনার চাহিদামতো লিখাকে খুঁজে করবেন ? কিছু কিছু
ওয়েবসাইট উনাদের পাঠকের সার্চের উপর নির্ভর করে আপনাকে কি-ওয়ার্ড পরামর্শ দিয়েথাকে।
আর্টিকলে
রাইটিং বা নিবন্ধ রচনা :
লিখার জন্য আপনি যে বিষয়গুলির উপর অনুসন্ধান করেছেন সেটাকে অনেকগুলো পেজে লিখার জন্য
একটু বিস্তারিত ভাবে চিন্তা করুন। প্রথম কাজ হবে বিশেষ শব্দ বা কি-ওয়ার্ড খুঁজে বেরকরা।
অন্যান্য লেখকের লিখা পড়ুন উনাদের লিখার স্টাইল, প্রেসেন্টেশন, কি-ওয়ার্ড ব্যবহার এবং
সর্বোপরি বিজ্ঞাপন গুলোর প্লেসমেন্ট ইত্যাদি।
মনে রাখবেন এই প্রফেশনে অনেক তাবড় তাবড় লিখক উনাদের লিখা পাবলিশ করে থাকেন তাই
আপনার লিখার স্ট্যান্ডার্ড বা গুণমান ভালো রাখতে আপনাকে সচেষ্ট হতে হবে এবং এধরণের
লিখা সার্চ ইঞ্জিনে আপনার কাছ থেকে আসা করে।
কোয়ালিটি
কনটেন্ট বা গুণমান বিষয়বস্তু সাইট :
লিখার অভ্যাসকে সর্বদা চালু রাখতে হবে প্রাথমিক অবস্থায় হয়তো খুব ভালো বা গুণগত মান
সমম্পন্ন আর্টিকল নাও লিখতে পারেন হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রাকটিস মাকেস এ ম্যান পারফেক্ট,
একশো পেজ লিখের পর নিজেই বুঝতে পারবেন পার্থক্য। আপনার লিখার মান অনেক উন্নত হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় এডসেন্সের সহযোগিতায় একটি কোয়ালিটি
কনটেন্ট সাইট তৈরী করুন কি-ওয়ার্ড টাইটেল ও কন্টেন্টস গুলোকে ট্রেন্ডিং কি-ওয়ার্ড খুঁজে
বের করে একটি ভালো লিখা তৈরী করুন ও পাবলিশ করুন।
এডসেন্স নিজে থেকেই আপনার আগের লিখা গুলোকে এখানে নিয়ে চলে আসবে।
পাব্লিকেটশনে আয়ের মাধ্যম যেহেতু বিজ্ঞাপন
তাই বিজ্ঞাণগুলোকে সঠিক স্থানে প্লেস করা অত্যন্ত জরুরি যাতে একজন দর্শকের সহজেই নজরে
আসে আর ক্লিক করে খুলতে পারে। গবেষণা বলছে ওয়েব পেজার বামদিকের স্থানগুলো সবচেয়ে মূল্যবান
কারণ একজন দর্শকের নজর প্রথমেই এসকল স্থানে আসে। যদিও এর সঠিক কারণ জানা যায়নি, অনেকেই
বলছেন খুব নামি দামি ওয়েব সাইট গুলো তাদের বামদিকের স্থানটিকে অধিক রেঙ্কিং বা মূল্য
দিয়ে থাকেন। তাই দর্শকগণ অন্যান ওয়েব সাইট গুলোতেও এই জায়গাগুলোকে অধিক মূল্য দিয়ে
থাকেন ।
ফ্রেশেরস বা নুতন ব্লগের গণ যারা সবে আরম্ভ
করেছেন দৈর্য খুব বেশি দরকার এই ব্যবসায় অনেকের ইনকাম ছয় থেকে একবছর পরে শুরু হয়েছে,
কেউ কেউ হতাশ হয়ে মাঝপথে ছেড়ে চলে গেছেন। ইটা সত্য অনেকেই এই ব্যবসা করে খুব ভালো যায়
করছেন এবং তাদের সাইট গুলোতে ক্লীকার সংখ্যা ও সিপিএম এর পরিসংখ্যান অনেক বেশি ও স্বাস্থকর।
লেখকদের উপার্জন বেশি করার জন্য, আরও পাঠকের সংখ্যা বেশি করার জন্য কিছু কৌশল এবং শৈলী
রয়েছে। এই কৌশলগুলিকে জেনে এবং সঠিক ভাবে কাজে লাগালে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার পাঠকের
সংখ্যা বৃদ্দি হয়েছে, বিজ্ঞাপনের সংখ্যা বৃদ্দি হয়েছে একই সঙ্গে আপনার ইনকাম অনেক বৃদ্দি
পেয়েছে।
আপনার প্রকাশিত ওয়েবসাইটের প্রতিটি পেজর
গুণগত মান, প্রতিদিন ও প্রতিমাসে পারফরমেন্স কতজন পাঠক ক্লিক করছেন কিংবা কতগুলো বিজ্ঞাপন
এখানে প্রকাশিত হচ্ছে এগুলোর সঠিক পরিসংখ্যান যদি আপনি পেতে চান তাহলে এডসেন্স তাদের
দুর্দান্ত ট্র্যাকিং পরিসংখ্যান বা স্টাটিস্টিক পদ্দতিতে আপনাকে সম্পূর্ণ রিপোর্ট তুলে
ধরবে। এডসেন্স যেহেতু বিজ্ঞাপন পাবলিকেশন সংখ্যার উপর আপনার ইনকাম নির্ভর করছে তাই
এডসেন্সের সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত এবং এর সর্বাধিক সদ্ব্যবহার করা উচিত।
পেজার বিজ্ঞাপন গুলিকে সঠিক ভাবে টিউন করতে হবে, অনেক সময় কিছু কিছু বিজ্ঞাপন কে সঠিক
প্লেস না করার জন্য ভালো পারফরম্যান্স দেয়না তাই এগুলোকে ঠিকঠাক প্লেস করুন ও পাঠকের
নজরে নিয়ে আসুন।
আজকাল সার্ফেররা ব্যানার ও স্ক্যাস্ক্র্যাপের
এর মতো বিজ্ঞাপন ফর্ম্যাটগুলিকে পছন্দ করেন না। কি ধরণের বিজ্ঞাপন প্লেস করবেন নিজে
না বুজতে পারলে প্রয়োজনে কোনো এক্সপার্টের পরামর্শ নিন, কোথায় কি ধরণের বিজ্ঞাপন আপনার
পেজে প্রকাশ করলে আপনার পাঠকের নজরে আসবে, একবার বিজ্ঞাপন টিউন সম্বন্দে ধারণা করে
নিতে পারলে বিজ্ঞাপনের সংখ্যা ও আপনার পেজ বৃদ্দি পাবে।
যে বিষয়টা নিয়ে আগেও আলোচনা করেছি আপনাকে
সত্যিকার অর্থে অর্থোপার্জন শুরু করার জন্য অন্য ব্যবসার মতোই ধৈর্য এবং সময় দুটোই
রাখতে হবে। এই জগতে টিকে থাকা একটা বিশাল যুদ্ধ, কন্সিস্টেন্সি অর্থাৎ আপনাকে লিখা
চালিয়ে যেতেই হবে কারণ এডসেন্স ও পাঠক এর আপনার
উপর বিশ্বাস ও আগ্রহ দুটোই আস্তে একটু সময় লাগবে। শুধুই অর্থ উপার্জনের লক্ষ নিয়ে এখানে
আসলে লিখার মান উন্নত করা একটু শক্ত হবে, মনে রাখবেন ভালো লিখা এমনিতেই মূল্য পাবে
পাঠক পছন্দ করবে, এখানে একটা লক্ষ নিয়ে আপনাকে এগোতে হবে এবং প্রতিদিন আপনার কাজের
কোয়ালিটিকে উন্নতি করতে হবে, আপনার পাঠকই আপনার ক্রেতা তাই পাঠকের চাহিদা ও সাময়িক
প্রসঙ্গ গুলোকে প্রাধান্য দেয়া জরুরি।
আরেকটি খুব জরুরি বিষয় আপনি একটি পেজ পাবলিশ
করে দিয়ে ভাবলেন আপনার কাজ শেষ এই ভুলটা কখনোই করবেন না। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নুতন
নুতন বিষয় এর উপর গবেষণা করুন অন্তত পক্ষে সাত-শো থেকে বারো-শো শব্দের মনোৰঞ্জক প্রবন্ধ
লিখুন যাতে একজন পাঠক বেশি সময় ধরে আপনার ওয়েব পেজে উপস্থিত থাকেন। এডসেন্স থেকে দ্রুত
ও ভালো আয় করতে হলে বিজ্ঞাপনগুলিতে সঠিকভাবে অরেঞ্জ করা আরেকটি বিশেষ জরুরি কাজ বিজ্ঞাপন
সহজেই দর্শকের নজরে আস্তে হবে তাই প্রতিদিন
সময় বেরকরে লিখাগুলকে প্রয়োজনে এডিট করুন, পাঠকের মন্তব্যের উত্তর দিন, বিজ্ঞাপন গুলোকে
সঠিক টিউন করুন। এমনিতেই আপনার আউটপুট বেড়ে যাবে।
মূল্যহীন কাজকে অনেকসময় আমরা সঠিক মর্যাদা দেই না। এডসেন্স থেকে ভালো আয় ও সফলতা পেতে হলে প্রতিদিন এটার উপর কাজ করতে হবে, চেষ্টা চালিয়ে যাতেই হবে, মাজপথে হাল ছাড়লে চলবে না, এডসেন্স ই একটি ভালো সঠিক উপায় যা আপনার জীবনে সফলতা এনে দেবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন